Home বিনোদন Bangla Insider | বিশ্বকাপের পূর্বে বাংলাদেশ দলের ফটোসেশন

Bangla Insider | বিশ্বকাপের পূর্বে বাংলাদেশ দলের ফটোসেশন

2
0

২০১৯ সালে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের কাছে শেষ ষোলোতে হেরে বিদায়
নেয় পিএসজি। এরপর আরও পাঁচটি মৌসুম কেটে গেল, পিএসজির আর চ্যাম্পিয়নস লিগ শিরোপা জেতা
হয়নি এখনো! কিন্তু হাল ছাড়েনি পিএসজি। প্যারিস থেকে তারকা গেছে, এসেছে নতুন তারকা;
কিন্তু নেইমার-এমবাপ্পেকে সারথি বানিয়ে স্বপ্ন দেখে গেছে তারা।

২০২১ সালে তো বার্সেলোনার দুর্বলতাকে পুঁজি করে লিওনেল মেসিকে দলে
ভেড়ান নাসের আল খেলাইফি। মেসি-নেইমার-এমবাপ্পে; তর্কসাপেক্ষে সেই সময় ফুটবল বিশ্বের
সেরা আক্রমণত্রয়ী গড়ে নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন তিনি।

মেসি-নেইমার-এমবাপ্পে ত্রয়ী যুগে প্রবেশের আগে পিএসজিতে খেলাইফি-যুগ
আর চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের স্বপ্নের সূচনা-পর্বটা একটু ঘুরে আসা যাক। প্যারিসের ক্লাবটিতে
খেলাইফি-যুগের শুরু ২০১১ সালে। কাতারিদের বিশাল বিনিয়োগের ফল ফ্রান্সের ঘরোয়া ফুটবলে
পিএসজি পেতে শুরু করে বছর তিনেক পর থেকে। ২০১৪-১৫ থেকে টানা জিততে শুরু করে ঘরোয়া লিগ
আর কাপের ট্রফি।

পিএসজির সমর্থকদের তখন হয়তো মনে হচ্ছিল, গোলাপের পাপড়ি ছিটানো প্যারিসের
সড়ক দিয়ে তো অনেক হাঁটা হলো, এবার ফরাসি সৌরভ ইউরোপের বন্দরে-অন্দরে ছড়িয়ে দেওয়া যাক!
দামি, কিন্তু সুরভিত সব খেলোয়াড় কেনার জন্য কাতারি অর্থ তো আছেই। তাহলে আর দেরি কেন!
প্যারিসের স্বপ্নাতুর আর ইউরোপসেরার ট্রফি জয়ের জন্য বিভোর চোখগুলো নজর এড়ায়নি খেলাফিরও।
তাঁর অবস্থাও তো তখন পুর্ণেন্দুপত্রীর সেই কবিতার লাইনের মতো—সমস্ত পাওয়ার পরও মানুষের
তবু বাকি থাকে/কোনোখানে একটি চুম্বন।

খেলাইফির সেই একটি চুম্বন যে চ্যাম্পিয়নস লিগ শিরোপা, সেটা কারই
বা আর অজানা আছে! তাই তো তিনি ২০১৭ সালে বার্সেলোনা থেকে নেইমার আর পরের বছর মোনাকো
থেকে এমবাপ্পেকে দলে ভেড়ান। ফরাসি ফুটবলে তাঁরা দুজন তো তখন শাঁচ আর লা বেলে পারফিউমের
মতোই সুরভিত আর বিখ্যাত। কিন্তু শাঁচ আর লা বেলের মতো নেইমার ও এমবাপ্পে শুধুই ফরাসি
সৌরভ হয়েই রইলেন, গুচি বা ক্যালভিন ক্লেইনের মতো বৈশ্বিক হতে পারলেন কই! তাঁরাও পিএসজিকে
শুধু ঘরের রাজা করেই রাখতে পারছিলেন, ইউরোপের নয়।

খেলাইফি এবার আরও মরিয়া হয়ে উঠলেন। বৈশ্বিক ব্র্যান্ডের নেশায় উন্মত্ত
আর চ্যাম্পিয়নস লিগের মাদকতায় আসক্ত ঘোলা চোখ খেলাইফি তখন হাত বাড়ালেন মেসির দিকে,
পেয়েও গেলেন। ২০২১ সালে প্যারিসে গড়লেন এমএনএম ত্রয়ী। প্রথম মৌসুমে অতটা আশা হয়তো করেননি,
ত্রয়ীটাকে জমে ওঠার সুযোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু এরপর? ২০১৯ সালে কাভানি যেমন লিখে রেখেছিলেন
ঘরে, ২০২৩ নেইমার ও এমবাপ্পের সঙ্গে মেসিকেও পেয়ে খেলাইফি নিজে লিখে রাখলেন পার্ক দ্য
প্রিন্সেসের আনাচকানাচে—এবার আমরা চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতব! ফুটবল দেবতা হয়তো তখন আড়ালে
মুচকি হাসছিলেন। আর চুপে চুপে বলছিলেন—ওরে নির্বোধ, টাকা দিয়ে ভাগ্য কিনতে চাইছিস।
দাঁড়া দেখাচ্ছি মজা!

পিএসজি সেবার চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতবে কী, শুরু হয়ে যায় গৃহদাহ! নেইমার-এমবাপ্পের
বিরোধ, মেসির ঠিক ছন্দ খুঁজে না পাওয়ার আক্ষেপ মিলিয়ে পিএসজিতে সে এক তুমুল বিশৃঙ্খল
পরিবেশ! শেষে তো মেসি বিদায় বলে মার্কিন মুলুকে পাড়ি জমালেন। সমর্থকদের জ্বালা সইতে
না পেরে নেইমারও পাড়ি জমালেন মরুর দেশ সৌদি আরবে। প্যারিসের রাজা হয়ে পড়ে রইলেন শুধু
এমবাপ্পে। কিন্তু কী জানি কী ভেবে—এমবাপ্পেও একটা সময় ঘোষণা দেন, তিনিও আর থাকবেন না
প্যারিসে। পাড়ি জমাবেন স্বপ্নের ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদে।

তা, এমবাপ্পে যাক, কিন্তু যাওয়ার বেলায় রাঙিয়ে দিয়ে যাক—পিএসজির
সমর্থকদের মনোভাবটা ছিল এ রকম। এমবাপ্পেও মনে মনে চাইছিলেন, প্যারিস তিনি ছাড়বেন রাজার
বেশেই। এ কারণেই কবে কখন পিএসজি ছাড়বেন, সেই ঘোষণা দেননি চ্যাম্পিয়নস লিগ থেকে ছিটকে
যাওয়ার আগে। ইউরোপে পিএসজির আরেকটা মৌসুম গেল, অধরা রইল চ্যাম্পিয়নস লিগ ট্রফি।

ফুটবলবিশ্বে এখন প্রশ্ন—দি মারিয়া চলে গেছেন, কাভানিও তো আগেই কেটে
পড়েছেন—তারার হাট সেই কবেই তো ভেঙেছে। এখন তো নক্ষত্রেরও পতন ঘটেছে। পিএসজি কি আর কখনো
চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতবে?

প্যারিসের ক্লাবটির সমর্থকদেরও হয়তো হৃদয় বিদীর্ণ—আর পাওয়া হলো
না শ্রেষ্ঠত্বের মুকুটের স্বাদ! কখনো কখনো বড় কোনো ব্যর্থতায় মনে হতে পারে—পৃথিবী রং
হারিয়ে একমুঠো ছাই হয়ে গেছে। মনে হতে পারে সব শেষ, সবকিছু থমকে গেছে।

কিন্তু না, হঠাৎ সেই ছাইয়ের মাঝ থেকে উঁকি মারে এক জোড়া সবুজ পাতা!
মানে, সব হারানো মানুষের মনেও স্বপ্ন ঠিকই উঁকি দেয়, দোল দিয়ে যায় মন। সেই দোল কি দিচ্ছে
বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের কাছে সেমিফাইনালে হেরে পিএসজি ছিটকে যাওয়ার পর কোচ লুইস এনরিকের
আশ্বাসবাণীতে! স্প্যানিশ কোচ যে বলেছেন, ‘পিএসজি গ্রেট দলই থেকে যাবে। এমনকি এর চেয়ে
ভালো দল হবে।’

কিন্তু মেসি-নেইমার-এমবাপ্পের মতো মহাতারকা কি আর আসবে পিএসজিতে!
তাঁরাই যখন পারেননি পিএসজিকে চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতাতে, আর কে পারবেন? এর উত্তরে পিএসজির
কোনো পাঁড় সমর্থক জীবনানন্দ দাশের কবিতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে বলতেই পারেন—যদিও প্রত্যাশা
সব সর্বস্বান্ত ব’লে মনে হয়—/আশার আস্থার আধার তবু নিজেই মানুষ/মহাকাশ কিংবা মহাসাগরের
চিহ্নগুলো নয়। মেসি-নেইমার-এমবাপ্পেরা যদি মহাকাশ আর মহাসাগর হন, তাঁদের চিহ্ন দিয়ে
নয়; পিএসজি এগিয়ে যাবে নিজেদের আস্থা দিয়ে।

কিন্তু সেই আস্থা প্যারিসের দলটি পাবে কোথা থেকে? এই যে খেলাইফিসহ
পিএসজির অন্য কর্মকর্তারা যে পিএসজির ভবিষ্যৎ প্রকল্প বা মহাপরিকল্পনার কথা বলেন, সেটা
আসলেই কতটা দৃঢ়, তা–ও একটা বিষয়। অতীতে বারবারই ক্লাবটির ওপরের মহলের মধ্যে একটি চিন্তাধারার
মধ্যে ‘স্টেজে মেরে দেব’ একটা ভাব দেখা গেছে। মানে লম্বা সময় ধরে কিছু গড়ে তোলার বদলে
তারা সব সময়ই চেয়েছে তাৎক্ষণিক ফল।

তাই তো যখনই তাদের মনে হয়েছে, একটি চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতা খুব দরকার,
তখনই এমন কোনো বড় তারকাকে দলে ভিড়িয়েছে, যাঁকে দেখে তাদের মনে হয়েছে—এ-ই তো আমাদের
কাঙ্ক্ষিত সেই ‘সাত রাজার ধন’ এনে দিতে পারে। কে জানে ধনকুবেরদের ভাবনা বুঝি এ রকমই
হয়!

কখনো নেইমার-এমবাপ্পে, কখনো মেসি-নেইমার-এমবাপ্পেতে সওয়ার হয়ে তারা
কাতারি ধনকুবেররা পিএসজিতে চূড়ান্ত সাফল্য আনতে চেয়েছে। এর জন্য যখন, যত প্রয়োজন অর্থ
ব্যয় করেছে। কিন্তু চ্যাম্পিয়নস লিগ শিরোপা জয়ের ব্যাপারটা তো আর ‘যখন ইচ্ছা হলো মই
বেয়ে আকাশে উঠে মদ পেরে’ খাওয়ার মতো নয়! তাই এমন স্বপ্ন পূরণ হয়নি পিএসজি-কর্তাদের।
যেটা আসল জিনিস, সত্যিকারের ‘ক্লাব কালচার’, যে কালচার চর্চা করলে সাফল্য পাওয়া যায়,
সেটা কি আসলেই তৈরি হয়েছে পিএসজিতে?

যদি সেটা হতোই, মেসি-নেইমার-এমবাপ্পের মধ্যে দারুণ সমন্বয় আর সখ্য
গড়ে না উঠে অহমের বৈরিতা তৈরি হবে কেন প্যারিসে। কই, রিয়াল মাদ্রিদের নক্ষত্রপুঞ্জের
দিনগুলোতে রোনালদো নাজারিও, ডেভিড বেকহাম, জিনেদিন জিদান, রবার্তো কার্লোসদের মধ্যে
অহমের ছিটেফোঁটাও তো দেখা যায়নি। কিংবা বার্সেলোনায় রোনালদিনিও, মেসি, ইতোরাও তো দলের
জন্য লড়েছেন একযোগে। এর ফসলও তাঁরা ঘরে তুলেছেন।

শুধু এটাই কি পিএসজির ‘ক্লাব কালচার’ গড়ে না ওঠার একমাত্র কারণ?
যদি অমন ‘কালচার’ থাকতই, তাহলে ক্রীড়া পরিচালক লুইস কাম্পোস ম্যাচ চলাকালে ডাগআউটে
দাঁড়িয়ে খেলোয়াড়দের উদ্দেশে চিল্লাতে পারেন না। যদি সেটাই থাকত, তাহলে কি আর ফি বছর
কোচ বদল হতো পার্ক দ্য প্রিন্সেসে! গত তিন বছরের কথাই ধরুন না, ২০২১ সালে দলটির কোচ
ছিলেন মরিসিও পচেত্তিনো, পরের বছর ক্রিস্টফ গালতিয়ের আর ২০২৩ সালে প্যারিসের ডাগআউটে
লুইস এনরিকে।

পরিষ্কার করে এটা বলে দেওয়া মুশকিল যে আর মেসি-নেইমার-এমবাপ্পেরা
যখন পারেননি, পিএসজিও আর পারবে না চ্যাম্পিয়নস লিগ জিততে। ১৯৯১ সালে রেড স্টার বেলগ্রেড
বা ২০০৪ সালে পোর্তো কি দলীয় প্রচেষ্টায় চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতেনি! পিএসজিও হয়তো একদিন
পারবে। কিন্তু তার আগে যে ওই ‘ক্লাব কালচার’টা গড়ে উঠতে হবে সেখানে।