Home বিনোদন স্বপ্ন নিয়ে মার্কিন মুল্লুকে ‘টিম বাংলাদেশ’

স্বপ্ন নিয়ে মার্কিন মুল্লুকে ‘টিম বাংলাদেশ’

3
0

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে বাংলাদেশ দল এখনো খুঁজছে পায়ের তলায় মাটি। ২০০৬/২০০৭ এ চার-ছক্কার এই ফরম্যাটে যাত্রা শুরু করলেও টাইগাররা এখনো নিজেদের শক্ত ভিতে দাঁড়াতে পারেনি। বিশেষ করে এই ফরম্যাটের কোনো বিশ্ব আসরেই নিজেদেরকে প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছেন তারা। সবশেষ অস্ট্রেলিয়াতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ প্রাপ্তি  মূল পর্বে দুই ম্যাচে জয়। তবে স্বপ্নের তো আর কোনো সীমা-পরিসীমা নেই! যে কারণে এবারও বিশ্বকাপে রঙিন ডানায় উড়তে চায় টাইগাররা। সেই রঙিন স্বপ্ন নিয়েই এবার মার্কিন মুল্লুকে পৌঁছেছে ‘টিম বাংলাদেশ’। বুধবার রাত ১টা ৪০ মিনিটে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্যে দেশ ছেড়েছেন নাজমুল হোসেন শান্তর দল। দেশ ছাড়ার আগে বিমানবন্দরে পেয়েছেন ক্রিকেট ভক্তদের উষ্ণ সংবর্ধনা। বুধবার রাতেই বিমানবন্দরে পরিবারকে নিয়ে হাজির হন তাসকিন আহমেদ- সৌম্য সরকার ও লিটন দাসরা। যেখানে টাইগার সমর্থকদের ভিড়ের মুখে পড়তে হয়েছে তাদের।

এ সময় কেউ তারকা ক্রিকেটারদের সঙ্গে সেলফির আবদার মিটিয়েছেন, আবার কেউবা শুভকামনা জানিয়েছেন বিশ্বকাপে ভালো পারফর্ম করার আশায়। যে ক্রিকেটারদের ঘিরে এত আশা তারা দেশ ছাড়ার আগে নানা বাক্যে আশ্বস্ত করে গেছেন ক্রিকেটপ্রেমীদের। ওয়েস্ট ইন্ডিজ-যুক্তরাষ্ট আয়োজিত এই আসরে অংশ নেয়ার আগে বিশেষ করে সাবেক অধিনায়ক বিশ্বের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান জানিয়েছে তার একটাই লক্ষ্যের কথা। তিনি বলেন, ‘একটা জিনিসই চাই যেন বাংলাদেশের হয়ে কন্ট্রিবিউট করতে পারি। এ বিশ্বকাপে যেন বাংলাদেশের হয়ে ভালো কিছু করতে পারি।’ 

২০০৭ এ প্রথম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নেয় বাংলাদেশ। সেই আসরে জোহানেস বার্গে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে দারুণ চমকে দিয়েছিল টাইগাররা। এরপর ২০০৯, ২০১০ ও ২০১২ এর বিশ্বকাপে কোনো ম্যাচেই জয়ের দেখা পায়নি বাংলাদেশ। তবে ২০১৬, ২০১৪, ২০২১ এই তিন বিশ্বকাপের আসরে ২ করে ম্যাচ জিতলেও তা ছিল  কোয়ালিফায়িং রাউন্ডে। তবে সবশেষ অস্ট্রেলিয়াতে মূলপর্বে দু’টি ম্যাচে জয়কে বলতে হয় বিশ্ব আসরে সবচেয়ে বড় অর্জন। এবার নয়া অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর নেতৃত্বে বিশ্বকাপে নিজেদেরকে প্রমাণ করার মিশন। তরুণ অধিনায়ক যেমন পেয়েছেন তারুণ্য-নির্ভর দল। তেমনি দলে আছেন অভিজ্ঞ সাকিবের সঙ্গে আরেক সাবেক অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদও। দেশ ছাড়ার আগে অধিনায়ক বলেছেন- এই দুই অভিজ্ঞকে তারা বিশ্বকাপে উপহার দিতে চান দারুণ কিছু। আর দেশ ছাড়ার আগে রিয়াদও আস্থার কথা জানিয়েছে  নয়া অধিনায়কের উপর। তিনি বলেন, ‘আমি আশাবাদী ওর (শান্ত) যে লিডারশিপ কোয়ালিটি আছে। আমার বিশ্বাস ও বাংলাদেশের জন্য ভালো করবে।’ 

আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে সামনে রেখে এরই মধ্যে ১৫ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। সেই দলের সঙ্গে রাখা হয়েছে দু’জন ব্যাকআপ ক্রিকেটারও। তবে এই দল নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা থাকার পরও বড় চমকের নাম তাসকিন আহমেদ। দেশ ছাড়ার আগে ইনজুরিতে পড়লেও তাকে যে  শুধু বিশ্বকাপ দলে রাখা হয়েছে তা নয়, করা হয়েছে সহ-অধিনায়কও।  দেশের অন্যতম এই পেসার তার উপর এই আস্থা রাখায় দেশ ছাড়ার আগে জানিয়েছেন তাদের সামর্থ্যের কথা। তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি আমাদের দল সেকেন্ড রাউন্ডে যাবে ইনশাআল্লাহ্‌।’ 
বিশ্বকাপের এবারের আসর বসবে যুক্তরাষ্ট্র ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে। আগামী ২রা জুন থেকে খেলা মাঠে গড়াবে। তবে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু হবে ৭ই জুন থেকে। যুক্তরাষ্ট্রের ডালাসে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরুটা হবে টাইগারদের। ১০ই জুন বাংলাদেশ লড়বে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে। পরবর্তীতে ১৩ই জুন নেদারল্যান্ডস এবং ১৭ই জুন নেপালের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে গ্রুপপর্ব শেষ করবে শান্তরা। বাংলাদেশ দলে এমন ৬ জন তরুণ ক্রিকেটার আছেন যারা এখন পর্যন্ত বড়দের এই বিশ্বকাপ আসরে খেলেননি। তাদের মধ্যে অন্যতম, তানজিদ হাসান তামিম, তানজিম হাসান সাকিব, জাকের আলী অনিক ও লেগ স্পিরা রিশাদ হোসেন ও। তারাও তাদের প্রতি রাখা আস্থার জবাব দিতে চান নিজেদের পারফরম্যান্স দিয়ে। জাকের বলেন, ‘আমি চাইবো আমরা যেন প্রত্যেক ম্যাচে স্টেপ বাই স্টেপ ভালো পারফরম্যান্স করতে পারি।’ 

অন্যদিকে সাকিব, রিয়াদের পর  তানকিন, সৌম্য ও মোস্তাফিজুর রহমানদের অভিজ্ঞতাও কম নয়। বিশেষ করে দলের বোলিং আক্রমণে অন্যতম শক্তি কাটার  মাস্টার ফিজকে নিয়ে প্রতিটি দলকেই ভাবতে হবে। স্বল্পভাষি এই পেসার অবশ্য দেশের সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে গেছেন তাদের পাশে থাকার জন্য। তিনি বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে থাকুন যেন আপনাদের ভালো খেলা উপহার দিতে পারি। দেশকেও জেতাতে পারি।’ এছাড়াও দলের তরুণ ব্যাটিং ভরসা তাওহীদ হৃদয়ও তো বিশ্বকাপ জয়েরই স্বপ্নের কথা শুনিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘বিশ্বকাপে গিয়ে ভালো করা, ভালো না বিশ্বকাপ নিতে চাই। শুধু আমি না, আমরা সবাই চাই।’  

তবে বিশ্বকাপে মাঠে নামার আগে আয়োজক যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে প্রথবারের মতো দ্বি-পক্ষীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজ। হিউস্টনের প্রেইরি ভিউ স্টেডিয়ামে ২১, ২৩ ও ২৫শে মে স্বাগতিকদের সঙ্গে তিনটি ম্যাচ খেলবে টাইগাররা। হিউস্টন থেকে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচের ভেন্যু ডালাসের দূরত্ব সড়কপথে ঘণ্টা তিনেকের। আবহাওয়ায়ও অনেকটাই মিল। ডালাসের কন্ডিশন বুঝতে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে সিরিজটি কাজে দেবে বলেই আশা বাংলাদেশ দলের। শুধু তাই নয়, ডালাসে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে আইসিসি নির্ধারিত একটি প্রস্তুতি ম্যাচও খেলার কথা রয়েছে শান্তদের।