Home বিনোদন মনের কোণে স্বপ্ন বুনে বিশ্বকাপ অভিযানে বাংলাদেশ

মনের কোণে স্বপ্ন বুনে বিশ্বকাপ অভিযানে বাংলাদেশ

3
0

বিশ্বকাপের আগে অফিসিয়াল ফটোসেশন ঘিরে এদেশের ক্রিকেটে বিতর্ক নানা সময়ে কম হয়নি। গত ওয়ানডে বিশ্বকাপে যাওয়ার আগে তো আনুষ্ঠানিক কোনো আয়োজনই রাখা হয়নি। এর আগে ফটোসেশনে বড় তারকাদের অনুপস্থিতি নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। এবার অন্তত সেরকম কিছু হলো না। সবাই স্যুট-টাই পরে বেশ গোছানোভাবেই শেষ হলো ফটোসেশন পর্ব। মাঠের ক্রিকেট কতটা গোছানো হবে, মূল কৌতূহল অবশ্য সেটিই।

ফটোসেশন শেষে সংবাদ সম্মেলনে কোচ চান্দিকা হাথুরুসিংহে ও অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত খুব বড় আশার কথা শোনাননি দলের সম্ভাবনা নিয়ে। দুজনই বলেছেন, প্রথম লক্ষ্য গ্রুপ পর্ব উতরানো। তবে মনের কোণে বড় স্বপ্নও যে তারা পুষছেন, সেই আভাসটুকু মিশে ছিল তাদের কথায়।

যুক্তরাষ্ট্রে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ ও পরে বিশ্বকাপ খেলতে বুধবার রাত পৌনে ২টায় ঢাকা ছাড়বে বাংলাদেশ দল। আপাতত দলের গন্তব্য টেক্সাসের হিউস্টন। এখানেই হবে স্বাগতিকদের সঙ্গে তিন ম্যাচের সিরিজ। এরপর দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলে বিশ্বকাপেও প্রথম দুটি ম্যাচ যুক্তরাষ্ট্রেই খেলবেন শান্তরা। গ্রুপ পর্বের পরের দুই ম্যাচ ওয়েস্ট ইন্ডিজে।

টি-টোয়েন্টির বিশ্ব আসরে এখনও পর্যন্ত বাংলাদেশের পারফরম্যান্স চরম হতাশাজনক। কোনো আসরেই দুটির বেশি ম্যাচ জেতা হয়নি। গত বিশ্বকাপের আগে তো মূল পর্বে কোনো ম্যাচ জয়ের স্বাদই ছিল না। গত বিশ্বকাপের পর থেকে অবশ্য টি-টোয়েন্টি পারফরম্যান্সে উন্নতির ছাপ পড়েছে। তবে স্বপ্ন দেখার সাহস জোগাচ্ছে না বৈশ্বিক আসরে বাংলাদেশের দুঃস্বপ্নের অতীত।

অধিনায়ক শান্ত তো কিছুদিন আগে সরাসরিই বলেছেন, বিশ্বকাপ নিয়ে যেন বড় আশা কেউ না করেন। দল ঘোষণার সংবাদ সম্মেলনে প্রধান নির্বাচক গাজী আশরাফ হোসেনও বলেছেন, খুব বড় কোনো আশা তারা করছেন না।

হাথরুসিংহের কণ্ঠেও একই সুর। বাংলাদেশ কোচ আপাতত গ্রুপ পর্ব পার হওয়ার অপেক্ষায়। এখানে সফল হলে তিনি সামনে তাকাতে চান আরও।

“আমি জানি, এদেশে আমাদের উচ্চাকাঙ্ক্ষা আছে। কারণ আইসিসি টুর্নামেন্টগুলোর বাইরে আমরা ভালো খেলছি। আমাদের জন্যও একইরকম, এই দেশ, সমর্থকদের মতো কোচিং স্টাফ ও ক্রিকেটারদেরও আশা অনেক উঁচুতে।”

“প্রথম পদক্ষেপ অবশ্যই কঠিন গ্রুপ পর্বটি পার হয়ে পরের ধাপে যাওয়া। খুবই শক্তিশালি গ্রুপে আছি আমরা। আমরা এটা পেরোতে পারি, যেটা আমাদের প্রথম লক্ষ্য, এটা পারলে সেখান থেকে আরও এগোতে চেষ্টা করব।”

বড় আশা না করতে আগে যে অনুরোধ করেছিলেন শান্ত, সেখান থেকেই তিনি দলের লক্ষ্যের কথা বললেন আবার। গ্রুপ পর্ব উতরানোকে মূল চ্যালেঞ্জ মানছেন তিনিও। তবে আরও বড় কিছুর ছবিও স্বপ্নের তুলিতে আঁকছেন তিনি।

“আমি যে কথাটি বলেছিলাম, তার পরও বাংলাদেশের সবাই প্রত্যাশা করবেই। যেটা খুবই স্বাভাবিক। আমি নিজেও প্রত্যাশা করি, আমাদের দলের প্রতিটি ক্রিকেটার প্রত্যাশা করে যে, আমরা অনেক ভালো ক্রিকেট খেলব। আমার মনে হয়, আমরা সুন্দরভাবে ছোট ছোট পরিকল্পনা নিয়ে এগোই যে, গ্রুপ পর্ব কীভাবে পার করব… অত দূর না ভেবে ছোট ছোট করে ভাবলে পরিকল্পনা করা সহজ হয়।”

“আমরা যে গ্রুপে আছি, আমাদের জন্য এটা কঠিন হবে। আমরা যদি এটা পার করতে পারি, তখন আমরা আলাদা আলাদা করে পরিকল্পনা করতে পারব। টি-টোয়েন্টিতে আমি বিশ্বাস করি, কোনো ছোট দল, বড় দল নেই। নির্দিষ্ট দিনে ভালো ক্রিকেট খেলতে পারলে যে কোনো দলকে হারানো সম্ভব।”

গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশের কঠিন দুই চ্যালেঞ্জ প্রথম দুই ম্যাচেই। ৭ জুন ডালাসে প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কা, তিন দিন পর নিউ ইয়র্কে লড়াই দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে। এই দুই ম্যাচের একটি জিততে পারলেও টিকে থাকবে গ্রুপ পর্ব পার হওয়ার সম্ভাবনা। দুটিই হেরে গেলে খুলে যাবে বিদায়ের দুয়ার।

সেই চ্যালেঞ্জ জয়ের জন্য যে প্রস্তুতি বাংলাদেশ নিয়েছে, তাতে সন্তুষ্ট কোচ হাথুরুসিংহে।

“আমাদের প্রস্তুতি দারুণ হয়েছে। খুবই ভালো। চট্টগ্রামে ক্যাম্প হয়েছে, এরপর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচের সিরিজ। বেশির ভাগ ক্রিকেটারকেই আমরা নির্দিষ্ট যে ধরনের পরিস্থিতিতে দেখতে চাই, এই পাঁচ ম্যাচে তা দেখার সুযোগ হয়েছে আমাদের। ব্যক্তিগত কিছু পারফরম্যান্স নিয়ে কিছু দুর্ভাবনার জায়গা আছে। এছাড়া প্রস্তুতি ভালো হয়েছে। অনেক কিছুই আমরা পেয়েছি।”

প্রস্তুতির পরেরধাপ যুক্তরাষ্ট্রে। সেখানে যাওয়ার পর কন্ডিশন ও পারিপার্শ্বিকতার সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নিতে চান কোচ।

“ওই দেশটির কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়াটা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ আমার মনে হয় না, কেউ সেখানে গিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে খেলা সবার জন্যই নতুন। কন্ডিশনকে ভালোভাবে বোঝা, আবহাওয়ার সঙ্গে ও ভিন্ন টাইমজোনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া, এসব জরুরি। অনুশীলন সেশনগুলি আমাদের জন্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ।”

“ম্যাচে (যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে) আমাদের সবসময়ই চাওয়া থাকে জেতা, যার সঙ্গেই খেলি না কেন। পাশাপাশি নতুন কিছু কম্বিনেশনও চেষ্টা করা হবে, যা আমরা এখনও পরখ করতে চাই। গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটারদের বিশ্রামও দিতে হবে। ওয়ার্কলোডের কথা ভেবে তাদেরকে শারীরিক ও মানসিকভাবে তরতাজাও রাখতে হবে। তবে মূল মনোযোগ থাকবে যুক্তরাষ্ট্রের কন্ডিশনে অভ্যস্ত হয়ে ওঠা।”

অভ্যস্ত হওয়ার জন্য যথেষ্ট সময়ই পাবে বাংলাদেশ দল। বিশ্বকাপে দলের প্রথম ম্যাচটির এখনও তিন সপ্তাহের বেশি বাকি। মাঠের ক্রিকেটে অভ্যস্ত হয়ে ওঠার পাশাপাশি ব্যর্থতা ঝেড়ে ফেলতে পারবেন কিনা শান্তরা, অপেক্ষা সেটি দেখার।