বিডি প্রাইম ডেইলি
বাংলাদেশ

শাহজাদপুরে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৭ ঘর বিক্রি

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার গাড়াদহ ইউনিয়নের গাড়াদহ দক্ষিণপাড়া গ্রামের আশ্রয়ণ প্রকল্পের সাতটি ঘর বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ঘর বরাদ্দের তালিকা প্রণয়নে প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী।

তবে প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। এ ঘটনা তদন্তে এক সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানায় প্রশাসন।

এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক এলাকাবাসী জানান, জনপ্রতি দু শতক জমি ও প্রতিটি ঘর নির্মাণে সরকার ১ লাখ ৭১ হাজার টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন। আর বরাদ্দপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা এ ঘর বিক্রি করেছেন ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকার বেশি দামে। এ ছাড়া ঘর বরাদ্দপ্রাপ্তদের তালিকায় ভুল মোবাইল নম্বর দেওয়া হয়েছে। যাতে বরাদ্দপ্রাপ্তদের সঙ্গে কেউ যোগযোগ করতে না পারে।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, এ আশ্রয়ণ প্রকল্পের ১৪ নম্বর ঘর বরাদ্দ পেয়েছেন আব্দুস সালাম ও তার স্ত্রী সেলিনা বেগম। কিন্তু স্ট্যাম্পের মাধ্যমে ওই ঘরটি ১ লাখ টাকায় কিনে সেখানে বসবাস করছেন মোছা. সিরিনা বেগম ও তার পরিবার। ১০ নম্বর ঘর বরাদ্দ পেয়েছেন বেল্লাল হোসেন ও তার স্ত্রী ছারা খাতুন। এ ঘর ৮০ হাজার টাকায় কিনে সেখানে বসবাস করছেন মো. আনু ও তার স্ত্রী সাবিনা বেগম। ৮ নম্বর ঘর বরাদ্দ পেয়েছেন রশিদ দম্পতি। তার ওই ঘরে বসবাস করছেন জাহের ও তার পরিবার। ৯ নম্বর ঘর বরাদ্দ পেয়েছেন ঠান্ডু দম্পতি। ঘরটি ১ লাখ ৩০ হাজার টাকায় কিনে সেখানে বসবাস করছেন পিঞ্জিরা খাতুন ও তার সন্তানরা। ১৩ নম্বর ঘর বরাদ্দ পেয়েছেন রফিকুল ইসলাম ও তার স্ত্রী মোছা. ফুলমালা। তাদের কাছে থেকে ১ লাখ টাকায় কিনে সেখানে বসবাস করছেন নাজমুল ও তার পরিবার। ১৬ নম্বর ঘর পেয়েছেন বিধবা রেশমা খাতুন। সেটি ১ লাখ টাকায় কিনে বসবাস করছে হাফিজুল ও তার স্ত্রী নাছিমা খাতুন। ১৭ নম্বর ঘর বরাদ্দ পেয়েছেন জহুরুল ইসলাম ও তার স্ত্রী আফরোজা বেগম। ঘরটি ১ লাখ ১১ হাজার টাকায় কিনে হালিমা বেগম ও তার পরিবার বসবাস করছেন।

বর্তমানে বসবাসকারী ব্যক্তিরা ঘর কেনার কথা স্বীকার করে তারা বলেন, আমাদের কোনো বাড়িঘর নাই। আবেদন করেও আমরা ঘর বরাদ্দ পাইনি। তাই নিরুপায় হয়ে বরাদ্দ পাওয়া ব্যক্তির কাছে থেকে স্ট্যাম্পের মাধ্যমে ঘর কিনে বসবাস করছি।

১৪ নম্বর ঘরের বরাদ্দ পাওয়া আব্দুস সালামের স্ত্রী সেলিনা বেগম ফোনে বলেন, এ বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। ঘর বিক্রির একটি টাকাও আমরা পাইনি। এ টাকা নিয়েছেন ডিজিটাল ভিশন বিদ্যানিকেতন কেজি স্কুলের মালিক জুয়েল আহম্মেদ। তিনিই এ বিষয়ে ভালো বলতে পারবেন।

জুয়েল আহম্মেদ বলেন, একটি টাকাও তিনি নেননি। তবে একটি ঘর বিক্রির সময় তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

শাহজাদপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রাশেদুল ইসলাম বলেন, এ প্রকল্প বাস্তবায়নে ভূমি বরাদ্দ দিয়েছেন শাহজাদপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও তালিকা প্রণয়ন করেছেন শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। আমি শুধু তালিকা অনুয়ায়ী প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করেছি। কাজেই এ বিষয়ে ওনারাই ভালো বলতে পারবেন। এ বিষয়ে আমার কিছু বলার নাই।

এ বিষয়ে শাহজাদপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) লিয়াকত সালমান বলেন, ঘর বরাদ্দে কোনো অনিয়ম-দুর্নীতি হয়নি। তাদের অভিযোগ সঠিক নয়। যাচাই-বাছাই করেই ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে খোঁজ-খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাদিয়া আফরিন বলেন, ঘর বরাদ্দে কোনো অনিয়ম-দুর্নীতি হয়নি। তাদের অভিযোগ সঠিক নয়।

তিনি বলেন, যাদের নামে ঘর বরাদ্দ হয়েছে কেবল তারা বসবাস করতে পারবেন। আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর কোনোভাবেই বিক্রি বা হস্তান্তরের সুযোগ নেই। সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর বিক্রি করা আইনত অপরাধ। এ বিষয়ে এক সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেলে ঘর বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তবে তদন্ত কর্মকর্তার নাম তিনি বলেননি।

Related posts

গাজায় হামলার ব্যাপারে ইসরায়েলকে সংযত হতে বলবেন না বাইডেন

ইমতিয়াজ আলি

কৌশলে বাসায় নিয়ে অজ্ঞান করে রক্ত নেওয়াই তার কাজ

ইমতিয়াজ আলি

‘‌‌উত্তরবঙ্গে ৫০ লাখ গাছ লাগাবে কৃষকলীগ’

ইমতিয়াজ আলি