Home বাংলাদেশ শান্তিচুক্তির প্রধান রূপকার আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ

শান্তিচুক্তির প্রধান রূপকার আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ

5
0

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ছাদেকুল আরেফিন বলেছেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার কৃতিত্বে আজ পার্বত্য জেলার চেহারা বদলে গেছে। তার দূরদর্শী নেতৃত্বে সংঘাতময় জনপদে আজ শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। শান্তিচুক্তির প্রধান রূপকার হলেন তৎকালীন চিফ হুইপ আলহাজ্ব আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ’।

শুক্রবার বরিশাল নগরীর ফজলুল হক অ্যাভিনিউতে ঐতিহাসিক পার্বত্য শান্তিচুক্তির ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ আয়োজিত সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে এসব বলেন তিনি।

দুপুর ৩টায় শুরু হওয়া সমাবেশের উদ্বোধক ছিলেন বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. তালুকদার মো. ইউনুস। মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদ সদস্য অ্যাড. একেএম জাহাঙ্গীরের সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য দেন মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট গোলাম আব্বাস চৌধুরী দুলাল, সরকারি ব্রজমোহন কলেজের অধ্যক্ষ ডা. মো. গোলাম কিবরিয়া, সরকারি বরিশাল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. আব্বাস উদ্দিন খান, সরকারি বরিশাল মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর আক্তারুজ্জমান, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. বদরুজ্জামান ভুঁইয়া।

প্রধান বক্তা বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ছাদেকুল আরেফিন আরো বলেন, বরিশাল জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের যে সমাবেশ এটা প্রমাণ করে বরিশালের কৃতিত্ব সর্বাঙ্গে। তৎকালীন সরকারের পক্ষ থেকে তৎকালীন চিফ হুইপ আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর স্বাক্ষরে শান্তিচুক্তিটি হয়েছিল জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে। ১৯৯৮ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি খাগড়াছড়ির স্টেডিয়াম মাঠে জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতে সন্তু লারমার নেতৃত্বে শান্তিবাহিনীর আত্মসমর্পণ করেছিলেন এবং সেখানে আট শ’র ওপর এ অস্ত্র সমর্পণ হয়েছিল। অস্ত্রসমর্পণের মধ্য দিয়ে তারা চার দফায় আত্মসমর্পণ করেছিল। এ অস্ত্র ও আত্মসমর্পণের প্রত্যেকটি মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় যিনি প্রধান রূপকার হিসেবে কাজ করেছেন তৎকালীন চিফ হুইপ আলহাজ্ব আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ।

তিনি বলেন, শেখ হাসিনার দৃঢ় নির্দেশনায় ’৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর যখন চুক্তিটি হলো তখন শুধু দেশের মধ্যে নয় আন্তর্জাতিকভাবেও স্বীকৃতি জানানো হয়েছিল-সাধুবাদ জানানো হয়েছিল। আজও সেই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। ওই শান্তিচুক্তি করার কারণে ইউনেসকো শেখ হাসিনাকে শান্তি পুরস্কারে ভূষিত করেছিলেন। তখন আওয়ামী লীগ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে যতগুলো পদক্ষেপ নিয়েছে তার মধ্যে অন্যতম পার্বত্য শান্তিচুক্তি। মনে রাখতে হবে, যে সরকার জনগণের কল্যাণের জন্য কাজ করবে সে সরকারকে দেশে এবং আন্তর্জাতিকভাবে পুরস্কৃত করা হয়। আজকে বাংলাদেশের নেতৃত্বকে জাতিসংঘও পুরস্কৃত করেছে।

ছাদেকুল আরেফিন বলেন, পার্বত্য জেলাগুলোকে বাংলাদেশের সংবিধানের মধ্যে রেখে অশান্তি জিইয়ে রাখার অনেক ষড়যন্ত্র চলছিল। সব ষড়যন্ত্রকে মোকাবেলা করে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে শান্তি প্রতিষ্ঠা হয়েছিল পাহাড়ে। চুক্তির অনুকূলে ১৯৪৬ শান্তিবাহিনীর সদস্য আত্মসমর্পণ করেছিল। যার মধ্যে ৭১৫ জনকে পুলিশ বাহিনীতে সরকার চাকরি দিয়েছিল। চুক্তির পরে ৮১২ প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৪০৪ মাধ্যমিক বিদ্যালয় হয়েছে, ২৫ কলেজ প্রতিষ্ঠা হয়েছে, ১১টি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট হয়েছে, একটি নার্সিং কলেজ হয়েছে, একটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় হয়েছে এবং একটি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা হয়েছে।

বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট তালুকদার মো. ইউনুস বলেন, শান্তিচুক্তি হয়েছিল বলেই পার্বত্য জেলায় শান্তির সুবাতাস বইছে। আজকে সারা বাংলাদেশ একটি শান্তির দেশে পরিণত হয়েছে। আমরা আজকে বলতে চাই, যারা এই দেশকে অশান্ত করতে চায়, ধ্বংস করতে চায়, ক্ষমতায় যাওয়ার দিবাস্বপ্ন দেখতে চায়-তাদের স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যাবে। এ স্বপ্ন কোনো দিন বাস্তবায়িত হবে না।

অনুষ্ঠানের উদ্বোধক বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ বলেন, আমার দাদা শহীদ আবদুর রব সেরনিয়াবাত দক্ষিণাঞ্চলে বঙ্গবন্ধুর সেনাপতি ছিলেন। আমার বাবা জননেত্রী শেখ হাসিনার এবং আমিও সেনাপতি হিসেবেই থাককে চাই।

তিনি বলেন, এটা কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি না। এটা আমাদের দেশের একটা অর্জন। বাংলাদেশের স্বাধীনতার সঙ্গে, মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে আমার রক্ত ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

সমাবেশে আরো উপস্থিত ছিলেন, বরিশাল মহানগর আওয়ামী বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি অ্যাডভোকেট আফজালুল করিম, আনোয়ার হোসাইন, সাইদুর রহমান রিন্টু, জেবুন্নেছা আফরোজসহ আওয়ামী লীগের অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

সমাবেশ শেষে অনুষ্ঠানের উদ্বোধক সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দল্লাহ অতিথিবৃন্দকে নিয়ে বেলুন ও শান্তির প্রতীক পায়রা উড়িয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন। পরে হাজার হাজার নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণে বরিশাল নগরীতে র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়।