বিডি প্রাইম ডেইলি
বাংলাদেশ

লালমনিরহাটের ঈদবাজারে বঙ্গবাজারের ‘ধাক্কা’


উত্তর জনপদের দারিদ্রপীড়িত জেলা লালমনিরহাট। কাজের তাগিদে এখানকার অনেকে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন বড় শহরে থাকেন। বেশিরভাগই মূলত পোশাকশ্রমিক ও রিকশাচালক। অল্পবিস্তর ছাত্র ও অন্য পেশার লোক রয়েছে। এর মধ্যে তিস্তা-ধরলাপাড়ের নদীভাঙা পরিবারের দুস্থদের বড় অংশ কাজের তাগিদে পাড়ি দেন ওইসব শহরে। ঈদুল আজহা ও ঈদুল ফিতরে ফিরে আসেন বছরে এক-দু’দিনের জন্য। এসব পরবাসী মানুষ আর নতুন পোশাকের উৎসবে মেতে উঠে এই জেলা।

তবে, এবার ঈদবাজারে পড়েছে বিরূপ প্রভাব। নেই আনন্দ-উল্লাস। ফুটপাত থেকে বহুতল মার্কেট- সব জায়গায় ক্রেতা কম, দাম বেশি। ব্র্যান্ডের জুতার শো-রুমে টুকটাক বিক্রি চলছে। অনেক বিক্রেতা কথা বলতেই নারাজ। তাদের মতে, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির পাশাপাশি বড় ‘ধাক্কা’ বঙ্গবাজার। যা কেটে উঠতে সময় লাগতে পারে কয়েক বছর।

বিক্রেতারা বলছেন, প্রথম রোজা থেকে তাদের বেচাকেনা শুরু হয়। এবারে রোজা শেষেও বেচা-বিক্রি শুরু হয়নি। বঙ্গবাজারের আগুনের প্রভাব পড়েছে বেচা-বিক্রিতে। বেশি দামে, ঝুঁকি নিয়ে কেনা হচ্ছে মালপত্র। আগে একটি বড় দোকানে কোটি টাকা পুঁজি লাগতো। এবার দুই কোটিতেও কুলাচ্ছে না। চিরচেনা বঙ্গবাজার বাদে অন্য স্থানে ঈদের মালামাল কিনতে গিয়ে কেউ কেউ পড়ছেন দুর্ঘটনায়। আগে যেখানে বঙ্গবাজারে কিনে সেখানেই ট্রান্সপোর্টে দিতে পারতেন, এবার সেই সুযোগও হাতছাড়া। পরিবহনেও দিতে হচ্ছে গচ্ছা।

বিক্রেতাদের আরেক ‘বিপদ’ অনলাইন ব্যবসা। এর কুফল বর্ণনা করতে গিয়ে ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম বলেন, এটা এখন মাদকাসক্তির মত। ক্রেতারা এখানে ঠকছেন। অনলাইনে দেখে এমন এমন ডিজাইন তারা খুঁজছেন, যা মার্কেটেই ছাড়েনি। অনলাইনে উড়না দিছে তো জামা দেয়নি, জামা দিয়েছে তো উড়না নেই। আমরা এত ডিজাইন পাবো কোথায়?

তিনি বলেন, বঙ্গবাজারের দুর্ঘটনার একটা বড় প্রভাব আমাদের মধ্যে পড়েছে। বঙ্গবাজারে মাল কিনতে কোনও সমস্যা হতো না। মধ্যবিত্তদের জন্য বঙ্গবাজার আশীর্বাদ ছিল। সেখান থেকে আমরা মালামাল নিয়ে ট্রান্সপোর্টে দিতাম। অন্য জায়গায় মালামাল নিতে গিয়ে নানা রকম হয়রানির ঘটনা ঘটছে। এরই মধ্যে দুই একজন ব্যবসায়ী মলম পার্টির খপ্পরে পড়েছেন। 

আরেক ব্যবসায়ী আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, সারা মাস ব্যবসা করে এবার লস হবে, ক্রেতা নেই। মধ্যবিত্ত-নিম্নবিত্তের নাগালের বাইরে পণ্য। দুই বছরের বাচ্চার ড্রেসের সর্বনিম্ন দাম ৮০০ টাকা। বঙ্গবাজার থেকে সারা বাংলাদেশে মালামাল যায়। আমরাও নিয়ে আসি। তার একটা প্রভাব তো থাকছেই।

ক্রেতারা বলছেন, প্রতিটি জিনিসের দাম বেড়েছে। যে তেল ৮০ টাকায় কিনেছি, সেটা ২০০। কৃষকের হাতে টাকা নেই। ৫০ টাকা গজের কাপড় ১০০। কৃষক বাঁচলে, ব্যবসায়ীরাও বাঁচবে। গতবারের চেয়ে দাম অনেক বেশি।

ফুটপাতের ষাটোর্ধ ব্যবসায়ী আজিজুল হক ব্যাপারী বলেন, কাস্টমারের সাথে রাগারাগি করতে হচ্ছে। বলতে হচ্ছে, ‘নিলে নাও, না নিলে চলে যাও’। গতবার  যে রেটে বিক্রি করেছি, এবার তার ধারেকাছেও নেই। শতকরা ৪০ টাকা বেশি দামে কিনতে হচ্ছে।

ফুটপাতের জুতা-স্যান্ডেল বিক্রেতা আরিফ হোসেন বলেন, ৫০ টাকার এক জোড়া স্যান্ডেলের পাইকারি মূল্যে ১০ থেকে ১৮ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। যারা কিনতে আসছেন, তাদের কিন্তু মাথা ঠিক নেই। তারা দাম বেশি দেখে ফেরত যাচ্ছেন।





Source link

Related posts

বদলির ব্যবস্থা নেই, মানবেতর জীবন এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের

ইমতিয়াজ আলি

৮-০ গোলে হারলো বাংলাদেশ

ইমতিয়াজ আলি

ময়মনসিংহে ট্রাকচাপায় নিহত ২ | সারা বাংলা

ইমতিয়াজ আলি