Home বাংলাদেশ বিএনপি-জামায়াত একই মায়ের পেটের দুই ভাই

বিএনপি-জামায়াত একই মায়ের পেটের দুই ভাই

6
0
মাহবুবউল আলম হানিফ
মাহবুবউল আলম হানিফ

যারা স্বাধীনতাবিরোধী রাজাকারদের দোসর ও পাকিস্তানের আদর্শে বিশ্বাসী, তাদের কথায় সংবিধান পরিবর্তনের কোনো সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ এমপি।

রোববার নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বিএনপি ও জামায়াত একই মায়ের পেটের দুই ভাই উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের এই সিনিয়র নেতা বলেন, ২০০৪ সালে ছাত্রশিবিরের এক সভায় তারেক রহমান বলেছিল- ছাত্রশিবির ও ছাত্রদল একই মায়ের পেটের দুই ভাই। বিএনপি-জামায়াতও একই জায়গা থেকে সৃষ্টি। জামায়াতের ইসলামীর সৃষ্টি পাকিস্তানের মওদূদীর হাতে আর বিএএনপির সৃষ্টি করেছে তাদের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই। বিএনপি-জামায়াত একে অপরের পরিপূরক। তারা কখনো বিচ্ছিন হবে না।

বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, সংবিধান মেনে যদি নির্বাচনে আসেন, আপনাদের স্বাগত। আর যদি না আসেন, সেই দায়ভার আপনাদের। সংবিধানের বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই।

হানিফ বলেন, জাতীয় সংসদ নিবাচন যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হবে। সেই নির্বাচনে সব রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করুক সেটা আমরা চাই। নির্বাচন হবে বর্তমান সরকারের অধীনে সংবিধানসম্মত উপায়ে। বর্তমান নির্বাচন কমিশন নির্বাচন পরিচালনা করবে। নির্বাচনকে অধিক ত্রুটিমুক্ত করার কোনো পরামর্শ থাকলে দিতে পারেন। সরকার এবং নির্বাচন কমিশন অবশ্যই বিবেচনা করবে।

বিএনপিকে শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা চাই দেশে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে আপনারা শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ করুন। আমাদের কোনো অসুবিধা নেই, কোনো বাধা নেই।

আওয়ামী লীগের এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, আওয়ামী লীগের শক্তি বাংলার মানুষ, এদেশের জনগণ। আপনার মনে করছেন আপনাদের জনসভায় কিছু সুবিধাবাদী লোক, কর্মী গিয়েছে। এতেই মনে করছেন একেবারে গোটা দেশ আপনাদের হয়ে গেছে। আওয়ামী লীগ বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া দল। বাংলার মাটির অনেক গভীরে আওয়ামী লীগের শেকড়, কোনো ভূঁইফোড় দল নয়। আওয়ামী লীগ কচু পাতার পানি নয় যে ধাক্কা দিলে টলমল করে পড়ে যাবে। আপনাদের মতো দল অন্দোলন করে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতাচ্যুত করার স্বপ্ন দুঃস্বপ্নই থাকবে।

দেশের বিভিন্ন স্থানে নিহত বিএনপি নেতাকর্মীদের ‘হত্যার’ বিচার চেয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এর জবাবে হানিফ বলেন, বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকতে আওয়ামী লীগের ২৬ হাজার নেতাকর্মীকে প্রাণ দিতে হয়েছে। বিচার পেতে চান? হত্যার বিচার হচ্ছে, হবে। বিচার তো চলছে। ২০১৩, ২০১৪ ও ২০১৫ সালে পেট্রোল দিয়ে মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করেছেন, সরাকরি-বেসরকারি সম্পত্তি ধ্বংস করেছেন। সেই সব মামলা তো আছে, বিচার চলছে। অপেক্ষা করুন এই সমস্ত হত্যার দায়ভার নিয়ে কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে।

খালেদা জিয়াকে পাপের প্রায়শ্চিত্ত করতে হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০০৪ সালে গ্রেনেড হামলার পর বহু নাটক করেছেন আপনারা। হাওয়া ভবনে বসে তারেক রহমান রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে গ্রেনেড হামলা চালিয়েছিল। আজ তা প্রমাণিত হয়েছে। আলামত ধ্বংস করেছিলেন, হামলায় আহতদের চিকিৎসা নিতে দেননি। তিন ঘণ্টা থানায় বসিয়ে রেখে মামলাও নেননি। উল্টো খালেদা জিয়া সংসদে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন, শেখ হাসিনাকে আবার কে মারবে যাবে। তিনি নিজেই ভ্যানিটি ব্যাগে করে গ্রেনেড নিয়ে গেছেন। কি নির্লজ্জ রসিকিতা, মিথ্যচার। তখন কোথায় ছিলো অপানদের কান্না। কোথায় ছিলো গণতন্ত্র, মানবতাবোধ। আর আজ আপনারা গণতন্ত্র, মানবতার কথা বলেন।

বেগম খালেদা জিয়া এতিমের টাকা আত্মসাতের মামলায় কারাগারে ছিলেন। আজ শেখ হাসিনার দয়া, অনুকম্পায় বাসায় আছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিএনপি-জামায়াতের কাছে ষড়যন্ত্রের রাজনীতি ছাড়া আর কিছু নেই। দেশের উন্নয়ন অগ্রগতি চায় না কারণ তাদের মনেপ্রাণে দিলে আছে পাকিস্তান। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান যিনি ক্যান্টনমেন্টে বসে বন্দুকের নলের ডগায় বসে দল গঠন করেছিলেন। যে দলের জন্ম হয়েছে অবৈধ পন্থায়, সেই দল দেশের জনগণের কল্যাণে কাজ করতে পারে না। এটা বারবার প্রমাণিত হয়েছে।

জিয়াউর রহমান কখনো মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন না দাবি করে হানিফ বলেন, জিয়াউর রহমান নাকি সিলেটে যুদ্ধ করেছেন। আমি সিলেটে বহু জনসভা করেছি। সেসব জনসভায় বলেছি, এই সিলেটের রণাঙ্গনে জিয়াউর রহমান যুদ্ধ করেছে এরকম কোনো ইতিহাস থাকে জানানোর জন্য। উনি পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছেন কোনো ইতিহাস খুঁজে পাইনি।

ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন এমপি ও ফেনী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন হাজারী। সম্মেলন উদ্বোধন করেন জেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক অধ্যক্ষ এ এইচ এম খায়রুল চৌধুরী।