বিডি প্রাইম ডেইলি
বাংলাদেশ

বরিশালে বেড়েছে ঠান্ডাজনিত রোগ, বেশি ভুগছে শিশুরা

বরিশালে শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঠান্ডাজনিত নানা রোগে শিশুদের আক্রান্ত হওয়ার সংখ্যা বেড়েছে। হাসপাতালগুলোতে নিউমোনিয়া, ব্রঙ্কিওলাইটিস, অ্যাজমা, শ্বাসকষ্ট, ডায়রিয়াসহ শ্বাসতন্ত্রের বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় দ্বিগুণের বেশি। এর মধ্যে বেশির ভাগই শিশু।

বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে অ্যাকিউট রেসপিরেটরি ইনফেকশন (এআরআই) বা ঠান্ডাজনিত রোগে মৃত্যুর কোনো তথ্য নেই। তবে বিভাগের সবচেয়ে বড় সরকারি হাসপাতাল বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের তথ্য অনুযায়ী, এই হাসপাতালে সদ্য সমাপ্ত বছরের নভেম্বরে ২৭ জন এবং ডিসেম্বরে ২৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আর জানুয়ারির পাঁচ দিনে মারা গেছে তিন শিশু। তাদের অধিকাংশই মারা গেছে ঠান্ডাজনিত রোগে। আর এই হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডে ডিসেম্বরে মারা গেছেন আরও চার বয়স্ক ব্যক্তি। তাঁরাও শ্বাসকষ্টজনিত রোগে মারা যান।

বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানায়, গত বছরের ৭ নভেম্বর থেকে চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রায় দুই মাসে শ্বাসতন্ত্রের প্রদাহজনিত রোগ বা অ্যাকিউট রেসপিরেটরি ইনফেকশন (এআরআই) বা সর্দি-কাশি, গলাব্যথা থেকে শুরু করে ব্রঙ্কাইটিস, ব্রঙ্কিওলাইটিস, নিউমোনিয়া ইত্যাদি রোগে আক্রান্ত হয়ে ৩ হাজার ৮৭ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে গত ৭ নভেম্বর থেকে ৩১ ডিসেম্বর রোগীর সংখ্যা ছিল ২ হাজার ৯৫৪ জন। সেই হিসাবে চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৪ জানুয়ারি, চার দিনে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ২৩৩ জন। তবে বেসরকারি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী এই সংখ্যা তিন গুণেরও বেশি।

স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্র বলছে, শ্বাসতন্ত্রের প্রদাহজনিত রোগীদের আক্রান্ত ও মৃত্যুর তথ্যগুলো আগে গুরুত্বসহকারে সংরক্ষণ করা হতো না। এবার এই রোগের প্রাদুর্ভাব অস্বাভাবিক হওয়ায় স্বাস্থ্য বিভাগ আলাদাভাবে এর তথ্য সংরক্ষণ করছে। ফলে এই রোগের আক্রান্ত ও মৃত্যুর আগের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

চিকিৎসা-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার পর আলাদা করে এবার শীতজনিত রোগের বিস্তার ঘটেছে ব্যাপক হারে। ফলে এটা গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে আলাদাভাবে হিসাব সংরক্ষণ করা হচ্ছে।

এর সঙ্গে করোনা অভিঘাতের কোনো যোগসূত্র আছে কি না, জানতে চাইলে বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উপপরিচালক শ্যামল কৃষ্ণ মণ্ডল বৃহস্পতিবার বিকেলে প্রথম আলোকে বলেন, সেটি সুনির্দিষ্টভাবে বলা যাচ্ছে না। তবে করোনা আক্রান্ত ব্যক্তিদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা এমনিতেই কমে যায়। তাই যেকোনো রোগে দ্রুত আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে সে সব ব্যক্তির। আর শীতকালে প্রকৃতিগতভাবেই সব মানুষের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা লোপ পায়। এটিও একটি বড় কারণ।

এবার শীত কিছুটা আগাম এলেও এর আচরণে ভিন্নতা লক্ষ করা গেছে। নভেম্বরের শুরুতে এ অঞ্চলে মৃদু শীত অনুভব হলেও তাপমাত্রা কখনো স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি, আবার কমে যাওয়ার প্রবণতা ছিল। ফলে দিনে গরম, শেষ রাতে বেশ ঠান্ডা আবহাওয়া বিরাজ করেছে। আবার হঠাৎ জানুয়ারির প্রথম দিন থেকে শীতের তীব্রতা দেখা যায়। শীতের এমন খেয়ালি আচরণের কারণেও শীতজনিত রোগের প্রাদুর্ভাব এবার বেশি বলে মনে করছেন চিকিৎসকেরা।

গতকাল দুপুরে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, মেডিসিন ওয়ার্ড, শিশু ওয়ার্ডসহ সব কটি ওয়ার্ড রোগীতে ঠাসা। শয্যা না পেয়ে অধিকাংশ রোগী মেঝেতে আছেন। একইভাবে হাসপাতালের বহির্বিভাগেও রোগীদের ভিড় দেখা যায়। তাদের মধ্যে বেশির ভাগই শিশু।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, আন্ত–ওয়ার্ড ছাড়াও বহির্বিভাগে সরকারি খোলার দিন চিকিৎসা নিচ্ছে গড়ে তিন শতাধিক শিশু। হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডটি ৩৬ শয্যার হলেও সেখানে দুপুর ১২টায় রোগী ছিল ১৩২ জন। ফলে বেশির ভাগ শিশুকে মেঝেতে শয্যা নিয়ে চিকিৎসা নিতে হচ্ছিল।

Related posts

২০২৩ সালে যাদের হারিয়েছে জবি

ইমতিয়াজ আলি

শর্ত ভঙ্গের অভিযোগে সিনেমা থেকে বাদ বাপ্পি

ইমতিয়াজ আলি

‘অপরাজেয়’র নেতৃত্বে সালেহ-শাহিন | ক্যাম্পাস

ইমতিয়াজ আলি