Home বাংলাদেশ কেন্দ্রে ঠাঁই না মেলায় হতাশ দলের তরুণ নেতারা

কেন্দ্রে ঠাঁই না মেলায় হতাশ দলের তরুণ নেতারা

10
0

দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ৮১ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটির ৭৮টি পদে নাম ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে নতুন মুখ কেবল ছয়টি। এর মধ্যে স্থান না মেলায় ছাত্ররাজনীতির মাধ্যমে উঠে আসা দলটির তরুণ কিন্তু সুপরিচিত অনেক নেতার মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে। নির্বাচনের আগে সবকিছু বিবেচনা করে সাবেক ছাত্রনেতাদের এবার তেমন সুযোগ দেওয়া হয়নি বলে স্বীকারও করেছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফর উল্লাহ। গতকাল মঙ্গলবার তিনি আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সভাপতিমণ্ডলীর বৈঠকে সভাপতি শেখ হাসিনাকে কমিটির পদগুলো পূরণের জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়। উনি তো সব খবর রাখেন। সেই অনুযায়ী তিনি নেতা মনোনীত করেছেন। সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যরা মনে করেছেন, তিনি যেটা করেছেন, সেটা খুব ভালো হয়েছে।’

নাখোশ হলেও বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্য কিছু বলে বিপত্তিতে পড়তে চান না তরুণ নেতারা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ছাত্রলীগের সাবেক কয়েক নেতা বলেন, তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন-সংগ্রামে আছেন। কেন্দ্রীয় কমিটির পদে থাকা সম্মানের ব্যাপার। পাশাপাশি এতে সংগঠনে অবদানের রাজনৈতিক মূল্যায়ন হয়। কিন্তু সেটা না হওয়ায় তাঁদের অনেকের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে।

গত ২৪ ডিসেম্বর ২২তম জাতীয় সম্মেলনে টানা দশমবারের মতো সভাপতি হন শেখ হাসিনা। আর টানা তৃতীয়বারের মতো সাধারণ সম্পাদক হন ওবায়দুল কাদের। ওই দিন কমিটির ৪৬টি পদে নেতাদের নাম প্রস্তাব করেন শেখ হাসিনা। কাউন্সিলররা এ প্রস্তাব পাস করেন। বাকি ৩৩টি পদে মনোনয়নের জন্য সভাপতিকে ক্ষমতা দেন কাউন্সিলররা। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কার্যনির্বাহী সদস্যদের পদে মনোনয়ন সভাপতিমণ্ডলীর বৈঠকে চূড়ান্ত হওয়ার কথা। ২৬ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে কার্যনির্বাহী সদস্যদের মনোনয়নের দায়িত্ব শেখ হাসিনাকে দেন সদস্যরা। বৈঠকে যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক পদে জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়।

বৈঠকে উপস্থিত একাধিক নেতা আজকের পত্রিকাকে বলেন, মাশরাফির জনপ্রিয়তা আছে। এমপি হওয়ার পর তাঁর বিভিন্ন ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে মানুষের কাছে ভাবমূর্তি বেড়েছে। দলীয় রাজনীতিতে যুক্ত করলে মানুষের কাছে ইতিবাচক বার্তা যাবে। এসব বিবেচনায় তাঁকে সরাসরি যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক করা হয়েছে।

পরে সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য করা হয় সিলেটের সৈয়দা জেবুন্নেসা হককে। স্বামী বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রয়াত এনামুল হকের হাত ধরে রাজনীতির মাঠে এলেও স্থানীয় রাজনীতিতে নারীদের সংগঠিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে তাঁর। নবম জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসনের সদস্য ছিলেন। জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। উপপ্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক পদে মনোনয়ন দেওয়া হয় সৈয়দ আবদুল আউয়াল শামীমকে। তিনি গত কমিটির কার্যনির্বাহী সদস্য। নব্বইয়ের দশকে ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন। পরে দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করেন।

ঘোষিত ২৭ কার্যনির্বাহী সদস্যদের মধ্যে ২৩ জনই বিগত কমিটিতে একই পদে ছিলেন। এর মধ্যে ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের কমিটি ঘোষণা করার পরে বিপুল ঘোষকে কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। নতুন মুখ হিসেবে যুক্ত হয়েছেন চারজন। তাঁরা হলেন সুচিন্তা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী আরাফাত, সাবেক প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নির্মল কুমার চ্যাটার্জি ও কবি তারিক সুজাত। আর গত কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন শফিককে কেন্দ্রীয় সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে। বাদ পড়েছেন গত কমিটির সদস্য এ বি এম রিয়াজুল কবির কাওছার।

কাওছারের বাদ পড়া নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন দলের সভাপতিমণ্ডলীর একজন সদস্য। ওই নেতা বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষতার সঙ্গে দলের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন কাজ করেছেন। তাঁর বাদ পড়ায় দলের অনেকেই বিস্মিত হয়েছে। এ ক্ষেত্রে তাঁর জেলা নরসিংদীর প্রবীণ কোনো নেতার বিরোধিতা থাকতে পারে বলে মনে করছেন সভাপতিমণ্ডলীর এ সদস্য। শেখ হাসিনার একজন উপদেষ্টার ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত মোহাম্মদ আলী আরাফাত দীর্ঘদিন ধরেই গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দলের পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন এবং বিরোধীদের অপপ্রচারের জবাবও শক্তভাবে দিয়ে চলেছেন। এমন বিবেচনায় তাঁকে যুক্ত করা হয়েছে বলে মনে করেন কয়েক নেতা।

তারানা হালিম যুবলীগের পাশাপাশি সংস্কৃতি অঙ্গনে কাজ করতেন। তিনি বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। নবম ও দশম সংসদে সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন। পাশাপাশি ২০১৫ সালের জুলাইতে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। একাদশ জাতীয় সংসদের এমপি না হলেও বিভিন্ন আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন। অভিজ্ঞতার বিবেচনা নিয়ে তাঁকে কেন্দ্রীয় সদস্য করা হয়েছে।

কবি তারিক সুজাত দীর্ঘদিন ধরেই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়। দলটির সংস্কৃতিবিষয়ক উপকমিটির সদস্য ছিলেন। তিনি জাতীয় কবিতা পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের অন্যতম। সাংস্কৃতিক আন্দোলনের একনিষ্ঠ সংগঠক হিসেবে দলের শীর্ষ পর্যায়ে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। এসব বিবেচনা করে তাঁকে সদস্য করা হয়েছে বলে জানা গেছে। কমিটিতে যুক্ত হওয়া নির্মল কুমার চ্যাটার্জি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রাবস্থায় জগন্নাথ হলে থাকাকালীন ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। পরে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের অধিকার আদায়ে কাজ করেন।